বুখারী শরীফের আলোকে আযানের বর্ননা।

হাদীস নং-৭০১ ইসহাক ওয়াসিতী (রহঃ) আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি মালিক ইবনু হুওয়ায়িরিস (রাঃ) কে দেখেছেন, তিনি যখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু’ হাত উঠাতেন। আর যখন রূকূ’ করার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, আবার যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠাতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন।
image of bukhari sharifহাদীস নং-৭০২ আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাকবীর দিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করতে দেখেছি, তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ’র তাকবীর বলতেন তখনও এরূপ করতেন। আবার যখন সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা বলতেন, তখনও এরূপ করতেন এবং রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলতেন। কিন্তু সিজদায় যেতে এরূপ করতেন না। আর সিজদার থেকে মাথা উঠাবার সময়ও এরুপ করতেন না।
হাদীস নং-৭০৩ আইয়্যাশ (রহঃ) নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাঃ) যখন সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং দু’হাত উঠাতেন আর যখন রুকূ করতেন তখনও দু’হাত উঠাতেন। এরপর যখন ‘ ’ বলতেন তখনও দু’হাত উঠাতেন এবং দু’রাকাআত আদায়ের পর যখন দাঁড়াতেন তখনও দু’হাত উঠাতেন। এ সমস্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বলে ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন। এ হাদীসটি হাম্মাদ ইবনু সালামা ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনু তাহমান, আইউন ও মূসা ইবনু উকবা (রহঃ) থেকে এ হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং-৭০৪ আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেওয়া হত যে, সালাত (নামায/নামাজ) প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রাখবে। আবূ হাফিম (রহঃ) বলেন, সাহল (রহঃ) এ হাদীসটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন বলেই জানি। ইসমায়ীল (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই বর্ণনা করা হত। তবে তিনি এরূপ বলেন নি যে, সাহল (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন।
হাদীস নং-৭০৫ ইসমায়ীল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি মনে কর যে, আমার কিবলা শুধুমাত্র এ দিকে? আল্লাহর শপথ, তোমাদের রুকূ’ তোমাদের খুশু’, কোন কিছুই আমার কাছে গোপন থাকে না। আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদের দেখি আমার পিছন দিক থেকেও।
হাদীস নং-৭০৬ মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রুকূ’ও সিজদাগুলো যথাযথভাবে আদায় করবে। আল্লাহর শপথ! আমি আমার পিছনে থেকে বা রাবী বলেন, আমার পিঠের পিছনে থেকে তোমাদের দেখতে পাই, যখন তোমরা রুকূ’ ও সিজদা কর।
হাদীস নং-৭০৭ হাফস্ ইবনু উমর (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ) ‘ ’ দিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করতেন।
হাদীস নং-৭০৮ মূসা ইবনু ইসমায়ীল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুড় করে থাকতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করে থাকেন? তিনি বললেনঃ এ সময় আমি বলি – ইয়া আল্লাহ্! আপনি মাশরিক ও মাগরিবের মধ্যে যেরূপ দুরত্ব সৃষ্টি করেছেন, আমার ও আমার ত্রুটি-বিচ্যুতির মধ্যে ঠিক তদ্রুপ দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন। ইয়া আল্লাহ! শুভ্র বস্ত্রকে যেরূপ নিমল করা হয় আমাকেও সেরূপ পাক-সাফ করুন। আমার অপরাধসমূহ পানি, বরফ ও হিমশিলা দ্বারা বিধৌত করে দিন।
হাদীস নং-৭০৯ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) আসমা বিনত্ আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাতুল (নামায) কুসূফ (সূর্য গ্রহণের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তিনি সালাত (নামায/নামাজ) দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর রুকূ’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। তারপর দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর আবার রুকূ’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ’তে থাকলেন। এরপর উঠলেন, পরে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। এরপর আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূ’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ’তে দীর্ঘক্ষণ রুবূ’তে থাকলেন। এরপর রুকূ’ থেকে উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। তারপর উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। এরপর সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে ফিরে দাঁড়িয়ে বললেনঃ জান্নাত আমার খুবেই নিকটে এসে গিয়েছিল এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তা হলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, ইয়া রব! আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, একটি বিড়াল তাকে খামচাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ স্ত্রী লোকটির এমন অবস্থা কেন? ফিরিশতাগণ জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রী লোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে। নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, ইবনু আবূ মুলায়কা (রাঃ) বর্ণনা করেছিলেন, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারে।
হাদীস নং-৭১০ মূসা (রহঃ) আবূ মা’মার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার খাব্বাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও আসরের সালাত (নামায/নামাজ) কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কি করে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাঁড়ির নড়াচড়া দেখে।
বুখারী শরীফের আলোকে আযানের বর্ননা। বুখারী শরীফের আলোকে আযানের বর্ননা। Reviewed by TPP_ Admin on 8:32 PM Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.